ঢাকা , শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঘাটায় হুমকির মুখে পাউবোর ২৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৪-০৪ ১০:৩২:১৪
সাঘাটায় হুমকির মুখে পাউবোর ২৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সাঘাটায় হুমকির মুখে পাউবোর ২৫ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধার সাঘাটায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়েছে। নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে ট্রাক্টর বোঝাই করে বাঁধের ওপর দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলছে। এতে বাঁধের অসংখ্য স্থানে ধসে গেছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আগামী বর্ষা ও বন্যায় এর সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যমুনার ডান তীরবাসীর।

 
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটা-মুন্সিরহাট এলাকায় নবনির্মিত বাঁধটির ওপর দিয়ে চলছে একের পর এক বালুবোঝাই ট্রাক্টর। নদী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে তোলা বালুবোঝাই ভারী ট্রাক বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বাঁধের বাম অংশে বেশির ভাগ স্থানে প্রায় ৩০ ফুট নিচ থেকে ট্রাক্টর ওঠা-নামা করায় ধসে গেছে অনেক স্থান। সেসব জায়গায় স্থানীয়দের আবাদি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


স্থানীয় কৃষক মাহাবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দাপটের সঙ্গে ট্রাক্টর মালিকরা এভাবে বাঁধকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের।

মুন্সিরহাট এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, অবৈধ ভটভটি ও ট্রাক্টরের ধুলোবালিতে গাছের পাতা ঢেকে যাচ্ছে। বাঁধের ক্ষয়ক্ষতি তো আছেই, এছাড়াও এলাকার গাছ গাছালিতে ফল ধরছে না।

বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করা সাথালিয়া গ্রামের ভ্যানচালক গোলজার রহমান বলেন, বিভিন্ন অংশে বালু ফেলে রাখার কারণে চলাচল করতে পারছি না। খালি ভ্যান চালানোও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও বাঁধের ওপর ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করলে একদিকে যেমন কোটি কোটি টাকার এ গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ ধ্বংসের মুখে পড়বে, অন্যদিকে কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা মারাত্মক সংকটে পড়বে।

এ বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনারকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, বাঁধের ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ